কিশোর পরামর্শ ও নেতৃত্ব বিকাশ: আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গোপন চাবিকাঠি

webmaster

청소년상담사와 청소년 리더십 개발 - **Mental Well-being and Support:** A diverse group of teenagers, aged 14-17, are gathered in a brigh...

আরে বাহ! অনেক দিন হলো আপনাদের সাথে নতুন কিছু নিয়ে কথা বলা হয়নি। আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। আমাদের এই ছোট্ট ব্লগটা এখন আর ছোট্ট নেই, আপনাদের ভালোবাসায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে আসছেন, নতুন কিছু শিখছেন, আর নিজেদের জীবনকে আরও একটু সহজ করে তুলছেন। তাইতো ভাবছিলাম, আপনাদের জন্য এমন কিছু নিয়ে আসা দরকার যা শুধু তথ্যই দেবে না, বরং আপনাদেরকে নতুন করে ভাবাবে আর ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করবে। আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত সব কিছু বদলে যাচ্ছে, তাই আমাদেরও আপডেটেড থাকাটা ভীষণ জরুরি, তাই না?

আমরা সবাই জানি, গুগল এখন শুধু তথ্য নয়, অভিজ্ঞতা, গভীরতা আর বিশ্বাসযোগ্যতাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই আমি চেষ্টা করি আমার প্রতিটি পোস্টে আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর সুচিন্তিত মতামতগুলোকে এমনভাবে তুলে ধরতে, যাতে আপনাদের মনে হয় যেন আপনাদের একজন কাছের বন্ধু কথা বলছে। আমার ব্লগে আপনারা শুধু তথ্য পাবেন না, পাবেন আমার নিজস্ব অনুভূতি, আমি কীভাবে বিষয়গুলো দেখি, আর কীভাবে তা থেকে আপনারা লাভবান হতে পারেন তার সহজ সরল ব্যাখ্যা। ব্লগিং আমার জন্য শুধু একটা কাজ নয়, এটা আপনাদের সাথে একটা সম্পর্কের সেতু। এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে আমি সবসময় আপনাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কাজ করি। একটা পোস্ট যখন লেখা হয়, তখন আমি মনে মনে আপনাদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবি, কীভাবে লিখলে আপনাদের পড়তে ভালো লাগবে, কোন অংশে অ্যাড দেখালে বিরক্তি লাগবে না, আর কীভাবে লিখলে আপনাদের মুখে হাসি ফুটবে।আসলে, এই ডিজিটাল যুগে সফল হতে হলে শুধু ভালো কনটেন্ট লিখলেই হয় না, জানতে হয় কীভাবে সেই কনটেন্টকে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। এসইও থেকে শুরু করে গুগল অ্যাডসেন্সের খুঁটিনাটি — সবকিছুই এখন অনেক বেশি ইন্টারেক্টিভ। আমি সবসময় চেষ্টা করি লেটেস্ট ট্রেন্ডগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানাতে। যেমন, ২০২৫ সালের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং, ভিডিও কন্টেন্ট, ভয়েস সার্চ আর AI-এর ব্যবহার যে অনেক বাড়ছে, সেটা নিয়ে আপনাদের সাথে অনেক কথা বলেছি। আবার, কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে AI কীভাবে মানব স্পর্শকে সরিয়ে দিতে পারে বা কীভাবে আমরা এটিকে আমাদের সুবিধামত ব্যবহার করতে পারি, তা নিয়েও গভীরভাবে চিন্তা করার প্রয়োজন। ব্লগের প্রতিটি অংশে, প্রতিটি বাক্যে আমার চেষ্টা থাকে আপনাদের জন্য কিছু মূল্য তৈরি করা, যা আপনাদের সময় বাঁচাবে আর উপকারে আসবে। যখন আপনি একটি পোস্ট পড়া শুরু করেন, তখন আমার লক্ষ্য থাকে আপনাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা, যাতে আপনি এখান থেকে কিছু শিখে যান। আমার প্রতিটি পোস্ট শুধু অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের জন্য নয়, এটি আপনাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যও বটে।
আমাদের সমাজে তরুণ প্রজন্ম মানেই অফুরন্ত সম্ভাবনা আর নতুনত্বের প্রতীক। কিন্তু এই সম্ভাবনার পথটা সবসময় মসৃণ হয় না, পথে আসে নানা রকম চ্যালেঞ্জ। মানসিক চাপ, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, সামাজিক প্রত্যাশা – এমন অনেক কিছুই আমাদের তরুণ বন্ধুদের হতাশ করে তোলে। ঠিক এই সময়েই প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, যে কিনা বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়ে পথ দেখাবে। একজন অভিজ্ঞ যুব পরামর্শদাতা যেমন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেন, তেমনি ‘যুব নেতৃত্ব বিকাশ’ কর্মসূচীগুলো তাদের ভেতরের সুপ্ত গুণগুলোকে জাগিয়ে তোলে। কীভাবে তারা নিজেদের সমস্যা মোকাবিলা করবে, ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করবে, আর সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে – এই সবকিছুই নির্ভর করে সঠিক পরামর্শ আর অনুপ্রেরণার উপর। একজন দক্ষ পরামর্শদাতা পারেন তরুণদের ভুল পথে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের বীজ বুনে দিতে। আসুন, আজকের আলোচনায় আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

তরুণদের মনের কথা: চাপ আর অনিশ্চয়তাকে কীভাবে সামলাবো?

청소년상담사와 청소년 리더십 개발 - **Mental Well-being and Support:** A diverse group of teenagers, aged 14-17, are gathered in a brigh...

বন্ধুরা, আমি জানি, এই বয়সে তোমাদের মনে হাজারো প্রশ্ন, হাজারো স্বপ্ন আর সেই সঙ্গে কিছু উদ্বেগও উঁকি দেয়। পড়াশোনার চাপ, ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, সামাজিক প্রত্যাশা – সব মিলিয়ে অনেক সময়ই নিজেকে খুব একা মনে হতে পারে। আমার মনে আছে, যখন আমি তোমাদের বয়সে ছিলাম, তখন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও কতটা দুশ্চিন্তায় থাকতাম! মনে হতো, কেউ হয়তো আমাকে বুঝতেই পারছে না। আসলে, এটা তোমাদের একার গল্প নয়, আমাদের সমাজের বহু তরুণ-তরুণীরই একই রকম অভিজ্ঞতা হয়। কিন্তু হতাশ হলে চলবে না, কারণ এই চ্যালেঞ্জগুলোই তোমাদেরকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এই সময়েই প্রয়োজন সঠিক মানসিক সমর্থন আর দিকনির্দেশনা, যা তোমাদেরকে পথ চলতে সাহায্য করবে। যখন মন খারাপ হয় বা সবকিছু অর্থহীন মনে হয়, তখন একজন অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার কথা মনে পড়াটাই স্বাভাবিক। আমার কাছে বহু তরুণ আসে তাদের মনের কথা বলতে, আর আমি সবসময় চেষ্টা করি তাদের ভেতরের শক্তিটাকে জাগিয়ে তুলতে। শুধু শুনে যাওয়া নয়, বরং তাদের সমস্যাগুলোকে নিজের চোখে দেখে, সেগুলোকে কীভাবে সমাধান করা যায়, সেই পথটা দেখিয়ে দেওয়াটাই আসল। নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, খোলা মনে কথা বলার সুযোগ পেলে অনেক বড় সমস্যাও ছোট হয়ে আসে।

মনের চাপ সামলানোর কিছু সহজ উপায়

প্রথমেই বলতে চাই, মনের চাপ অনুভব করাটা কিন্তু খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এটাকে চেপে রাখা বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। আমি সবসময় বলি, নিজেদের অনুভূতিগুলোকে চিনতে শেখো। যখন দেখছো কোনো বিষয় তোমাকে বেশি পীড়া দিচ্ছে, তখন সেটা নিয়ে কারো সাথে কথা বলো। হতে পারে সেটা তোমার বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা একজন অভিজ্ঞ পরামর্শদাতা। এছাড়াও, নিয়মিত মেডিটেশন বা হালকা ব্যায়াম মনকে শান্ত রাখতে দারুণভাবে সাহায্য করে। আমি নিজেও দেখেছি, প্রতিদিন অল্প কিছু সময়ের জন্য মেডিটেশন করলে অনেক বড় মানসিক চাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের ব্যায়ামগুলোও বেশ কার্যকর।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে ভয় কাটানোর কৌশল

ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাওয়াটা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এটাকে মনকে গ্রাস করতে দিলে চলবে না। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ভবিষ্যতের জন্য যত বেশি প্রস্তুতি নেবে, তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হবে। ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করো আর সেগুলোকে ধাপে ধাপে পূরণ করার চেষ্টা করো। যখন একটি লক্ষ্য পূরণ হবে, দেখবে তোমার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে। নিজের দুর্বলতা এবং সবলতাগুলোকে চিনতে শেখো। কোন বিষয়ে তোমার আগ্রহ বেশি, কোন দিকে তুমি যেতে চাও – এগুলো নিয়ে সময় নিয়ে ভাবো। প্রয়োজনে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নাও, অভিজ্ঞদের সাথে কথা বলো। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক পরিকল্পনা আর দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো অনিশ্চয়তাকেই জয় করা সম্ভব।

একজন সত্যিকারের বন্ধুর মতো পথপ্রদর্শক: কেন প্রয়োজন?

আমি মনে করি, জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন সত্যিকারের বন্ধুর মতো পথপ্রদর্শক থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। তোমরা হয়তো ভাবছো, স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে তো অনেক শিক্ষক আছেন, তাহলে আবার আলাদা পথপ্রদর্শকের কী দরকার? আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একজন শিক্ষক আর একজন পরামর্শদাতার ভূমিকা কিন্তু একেবারেই আলাদা। শিক্ষক যেখানে তোমাকে জ্ঞান দেন, সেখানে একজন পরামর্শদাতা তোমাকে পথ দেখান, তোমার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে শেখান এবং তোমার ভুলগুলো শুধরে দেন। এটা অনেকটা এমন, যেমন তুমি পাহাড়ে ট্রেকিং করছো আর তোমার পাশে একজন অভিজ্ঞ গাইড আছেন যিনি তোমাকে সঠিক পথটি দেখিয়ে দিচ্ছেন, বিপদ থেকে রক্ষা করছেন। এমন একজন মানুষ তোমাকে সাহস জোগাবেন যখন তুমি কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তোমাকে অনুপ্রাণিত করবেন যখন তোমার মনোবল ভেঙে যাবে। আমি বহু তরুণকে দেখেছি যারা শুধুমাত্র সঠিক একজন পরামর্শকের অভাবে নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি। অথচ, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তাদের জীবনটাই হয়তো অন্যরকম হতে পারতো। তাই, এমন একজন নির্ভরযোগ্য মানুষকে খুঁজে বের করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন ভালো পরামর্শদাতার বৈশিষ্ট্য

তোমরা হয়তো ভাবছো, একজন ভালো পরামর্শদাতা কীভাবে চিনবো? আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একজন ভালো পরামর্শদাতার কিছু বিশেষ গুণ থাকে। প্রথমত, তিনি ভালো শ্রোতা হবেন। তোমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, তোমাকে বোঝার চেষ্টা করবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি তোমাকে বিচার করবেন না, বরং তোমার প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন। তোমার ভুলগুলোকে সমালোচনার চোখে না দেখে, সমাধানের পথ দেখাবেন। তৃতীয়ত, তিনি সৎ এবং নির্ভরযোগ্য হবেন। তিনি তোমাকে এমন পরামর্শ দেবেন যা তোমার জন্য সত্যিই উপকারী। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার ব্লগের মাধ্যমে তোমাদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে, যেখানে তোমরা নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং সঠিক পরামর্শ পেতে পারো।

কীভাবে একজন পরামর্শদাতা তোমাকে সাহায্য করতে পারেন?

একজন পরামর্শদাতা বিভিন্নভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারেন। তিনি তোমার ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারেন, ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিতে পারেন, এমনকি তোমার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করতে পারেন। ধরো, তুমি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছো না, তখন একজন পরামর্শদাতা তোমাকে বিভিন্ন বিকল্পগুলো ব্যাখ্যা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবেন। আবার, যখন তুমি কোনো ব্যর্থতার মুখোমুখি হবে, তখন তিনি তোমাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা দেবেন। আমার কাছে আসা অনেক তরুণ তাদের পরীক্ষার চাপ, প্রেমের সম্পর্ক বা পরিবারের সমস্যা নিয়ে কথা বলে। আর আমি দেখেছি, শুধুমাত্র কিছু সঠিক কথা আর একটু সহানুভূতি তাদের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে।

Advertisement

নেতৃত্বের বীজ বুনন: নিজের ভেতরের ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলা

আমরা সবাই জানি, আমাদের সমাজে নেতৃত্ব মানেই শুধু বড় পদে থাকা নয়, বরং নিজেদের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যদের জন্য কিছু করা। আমার অভিজ্ঞতা বলে, নেতৃত্বের ক্ষমতা কিন্তু আমাদের সবার ভেতরেই কমবেশি সুপ্ত থাকে। দরকার শুধু সেই বীজটাকে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলা। যখন আমি প্রথম ব্লগিং শুরু করেছিলাম, তখন হয়তো ভাবিনি যে একদিন হাজার হাজার মানুষের কাছে আমার কথাগুলো পৌঁছাবে। এটা আসলে এক ধরনের নেতৃত্বের অনুশীলন। যখন তুমি নিজের কোনো আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছো, বা বন্ধুদের নিয়ে কোনো সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছো, তখন তুমি অজান্তেই তোমার নেতৃত্বের ক্ষমতাকে শানিত করছো। এই বয়সে তোমাদের মধ্যে অনেকেই গ্রুপ প্রজেক্ট, ক্লাব অ্যাক্টিভিটি বা স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত আছো। এগুলোই কিন্তু তোমাদের নেতৃত্ব বিকাশের প্রথম ধাপ। নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে শেখা আর সেগুলোকে কাজে লাগানোই আসল। অনেক সময় আমরা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সন্দিহান থাকি, ভয় পাই ব্যর্থ হওয়ার। কিন্তু মনে রেখো, প্রতিটি ব্যর্থতাই নতুন কিছু শেখার সুযোগ।

তরুণদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ

আমাদের সমাজে তরুণদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজে বিভিন্ন ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, স্পোর্টস টিম – এগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারো। আমি সবসময় উৎসাহিত করি এই ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হতে। এছাড়া, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা সামাজিক উদ্যোগগুলোতেও তোমরা যোগ দিতে পারো। এগুলো তোমাদেরকে সাংগঠনিক দক্ষতা শেখাবে, অন্যদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা দেবে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়াবে। আমার নিজেরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজের অভিজ্ঞতা আছে, আর আমি দেখেছি, কীভাবে এই কাজগুলো একজন মানুষকে আরও দায়িত্বশীল আর আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। নিজের কমিউনিটির জন্য কিছু করার আনন্দটাই অন্যরকম।

নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী

একজন ভালো নেতার কিছু বিশেষ গুণ থাকে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, একজন ভালো নেতা অবশ্যই একজন ভালো যোগাযোগকারী হবেন। তিনি অন্যদের সাথে স্পষ্ট এবং কার্যকরভাবে কথা বলতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, তার মধ্যে দূরদর্শিতা থাকতে হবে, অর্থাৎ তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবেন। তৃতীয়ত, তাকে অবশ্যই দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল হতে হবে। যখন তুমি অন্যদের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করবে, তখনই তুমি সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠবে। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার লেখায় এই গুণগুলোকে তুলে ধরতে, যাতে তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো গড়ে তুলতে পারো।

স্বপ্ন পূরণের পথে: সঠিক ক্যারিয়ার গড়ার গোপন কৌশল

এই যে, বন্ধুরা! যখন তোমাদের সাথে ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলি, আমার নিজের পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়। তখন মনে হতো, কত পথ, কোন পথে যাবো? তোমরাও নিশ্চয়ই একই রকম চিন্তাভাবনা করছো, তাই না? আজকাল তো চাকরির বাজার আরও কঠিন, আরও প্রতিযোগিতামূলক। শুধুমাত্র ভালো ফল করলেই যে একটা ভালো চাকরি পাওয়া যাবে, এমনটা কিন্তু নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সঠিক ক্যারিয়ার গড়তে হলে শুধু ডিগ্রি থাকলেই হয় না, দরকার হয় কিছু বিশেষ দক্ষতা আর দূরদর্শিতা। অনেকেই শুধু তথাকথিত ‘ভালো’ চাকরিগুলোর পেছনে ছোটে, কিন্তু নিজের আগ্রহ বা দক্ষতার দিকে নজর দেয় না। এতে যেটা হয়, একসময় দেখা যায় তারা তাদের কাজ উপভোগ করতে পারছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই, আমি সবসময় বলি, ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার আগে নিজেকে ভালো করে চিনে নাও। তোমার কী ভালো লাগে, কোন কাজ করতে তুমি আনন্দ পাও, তোমার শক্তি আর দুর্বলতাগুলো কী – এগুলো জানাটা খুবই জরুরি।

ক্যারিয়ার প্ল্যানিং: ধাপগুলো জেনে নিন

আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ক্যারিয়ার প্ল্যানিং কোনো একদিনের কাজ নয়, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এর কিছু নির্দিষ্ট ধাপ আছে যেগুলো মেনে চললে তোমরা অনেকটা এগিয়ে থাকবে। প্রথমত, আত্মবিশ্লেষণ। নিজেকে প্রশ্ন করো, তোমার আবেগ, আগ্রহ এবং দক্ষতা কী কী? দ্বিতীয়ত, বাজারের চাহিদা সম্পর্কে গবেষণা করো। কোন সেক্টরে এখন কাজের সুযোগ বেশি, ভবিষ্যতে কোন পেশার কদর বাড়বে? তৃতীয়ত, লক্ষ্য নির্ধারণ করো। তুমি কী হতে চাও, কতদূর যেতে চাও? চতুর্থত, সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলো অর্জন করো। অনলাইন কোর্স, ওয়ার্কশপ বা ইন্টার্নশিপ – বিভিন্ন উপায়ে এগুলো শিখতে পারো। আমি দেখেছি, যারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে, তারা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সফল হয়।

ডিজিটাল যুগে নতুন ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

তোমরা তো জানোই, এখনকার দুনিয়াটা ডিজিটাল! আর এই ডিজিটাল দুনিয়াতে কত নতুন নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তার শেষ নেই। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট, ডেটা অ্যানালিস্ট, এআই ডেভেলপার – এমন অনেক পেশা আছে যা ১০-১৫ বছর আগেও হয়তো এতটা প্রচলিত ছিল না। আমার মতো ব্লগিং বা ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংও কিন্তু এখন একটা দারুণ ক্যারিয়ার অপশন। আমি সবসময় চেষ্টা করি তোমাদেরকে এই নতুন ট্রেন্ডগুলো সম্পর্কে জানাতে। যারা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসো, তাদের জন্য এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি নিজে যেহেতু ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করি, তাই বুঝি এর ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।

Advertisement

ডিজিটাল যুগে মানসিক সুস্থতা: অনলাইনে কীভাবে ভালো থাকবো?

청소년상담사와 청소년 리더십 개발 - **Exploring Career Paths in the Digital Age:** A vibrant, futuristic classroom or co-working space i...

বন্ধুরা, আমাদের এই ব্লগটা যেমন ডিজিটাল, তেমনই তোমাদের জীবনও এখন অনেকটাই ডিজিটাল। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, সোশ্যাল মিডিয়া – এগুলো এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তোমরা কি জানো, এই ডিজিটাল জীবনযাত্রারও একটা খারাপ দিক আছে, যেটা তোমাদের মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে? আমার অভিজ্ঞতা বলে, অনলাইনে বেশি সময় কাটালে বা অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে বিচার করলে এক ধরনের হতাশা বা হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে। যেমন, ফেসবুকে হয়তো তুমি দেখছো তোমার বন্ধুরা কত ভালো ভালো জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছে, দামি দামি জিনিস কিনছে। তখন নিজের জীবনটা হয়তো তোমার কাছে এতটা আকর্ষণীয় মনে নাও হতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা অনুভূতি, কিন্তু এটাকে বাড়তে দেওয়া উচিত নয়। মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাটা এই ডিজিটাল যুগে খুবই চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি, তোমাদেরকে এই বিষয়ে সচেতন করতে এবং কিছু কার্যকর টিপস দিতে, যাতে তোমরা অনলাইনেও নিজেদের ভালো রাখতে পারো।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা

সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই আমাদের যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আমার পরামর্শ হলো, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করো। ধরো, দিনে এক ঘণ্টা বা দু’ঘণ্টা। যখন তুমি অনলাইনে থাকবে না, তখন ফোনটা দূরে রাখো। অন্যের প্রোফাইল দেখে নিজের জীবনকে তুলনা করা বন্ধ করো। মনে রেখো, মানুষ সাধারণত তাদের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই অনলাইনে শেয়ার করে, তাদের পেছনের সংগ্রামগুলো নয়। আমি নিজেও যখন দেখি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি সময় চলে যাচ্ছে, তখন বিরতি নিই। মাঝে মাঝে একটা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ খুব দরকারি।

সাইবারবুলিং থেকে নিজেকে রক্ষা করা

দুঃখের বিষয় হলো, ইন্টারনেটে একদল অসাধু লোক থাকে যারা অন্যদের হয়রানি করতে ভালোবাসে, যাকে আমরা সাইবারবুলিং বলি। আমার কাছে বহু তরুণ তাদের সাইবারবুলিং-এর শিকার হওয়ার গল্প বলেছে, যা শুনে আমি নিজেও খুব মর্মাহত হয়েছি। তোমাদের যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে ভয় না পেয়ে বাবা-মা, শিক্ষক বা নির্ভরযোগ্য কারো সাথে কথা বলো। অনলাইনে অপরিচিতদের সাথে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকো। মনে রেখো, তোমার নিরাপত্তা সবার আগে। প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবে না।

সমাজের জন্য কাজ: তরুণদের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গল্প

যখন আমি তোমাদের মতো বয়সে ছিলাম, তখন থেকেই সমাজের জন্য কিছু করার একটা তাগিদ অনুভব করতাম। ছোট ছোট উদ্যোগ, যেমন পাড়ার পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা অসহায়দের সাহায্য করা – এই সব কাজ থেকেই আমি এক অসাধারণ আনন্দ পেতাম। আর এখন যখন দেখি তোমাদের মতো তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে সমাজের জন্য কত দারুণ সব কাজ করছো, তখন সত্যিই মনটা ভরে ওঠে! আমার অভিজ্ঞতা বলে, তরুণদের মধ্যে যে অফুরন্ত শক্তি আর সৃজনশীলতা আছে, তা দিয়ে সমাজের অনেক বড় বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা দারিদ্র্য বিমোচন – এমন অসংখ্য ক্ষেত্র আছে যেখানে তোমাদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। শুধু দরকার একটু সদিচ্ছা আর সঠিক দিকনির্দেশনা। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি তরুণই তার নিজের মতো করে সমাজে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে।

তরুণদের সামাজিক উদ্যোগের উদাহরণ

তোমরা হয়তো ভাবছো, সমাজের জন্য কাজ করা মানেই অনেক বড় কিছু করতে হবে? একদম না! ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই বড় পরিবর্তন আসে। আমি দেখেছি, কিছু তরুণ নিজেদের এলাকায় বিনা পয়সায় গরিব শিশুদের পড়াচ্ছে, কেউ বৃক্ষরোপণ অভিযান চালাচ্ছে, আবার কেউ বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে। আমার নিজের ব্লগেও আমি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের গল্প শেয়ার করি, যাতে অন্যরা অনুপ্রাণিত হয়। তোমরাও তোমাদের স্কুলের বা কলেজের বন্ধুদের নিয়ে কোনো ছোট সামাজিক প্রজেক্ট শুরু করতে পারো। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সমাজ উপকৃত হবে, তেমনি তোমাদের মধ্যেও নেতৃত্ব এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা

বর্তমান সময়ে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তোমরা যেমন দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারো, তেমনি দ্রুততার সাথে সমাজে ছড়িয়েও দিতে পারো। ডিজিটাল মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে তোমরা খুব সহজে সচেতনতা তৈরি করতে পারো, তহবিল সংগ্রহ করতে পারো বা বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতামত জানতে পারো। আমি সবসময় বলি, তোমরা শুধু বর্তমানের বাসিন্দা নও, তোমরা ভবিষ্যতের নির্মাতা। তোমাদের কণ্ঠস্বর অনেক শক্তিশালী, আর এই কণ্ঠস্বরকে সমাজের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করো।

Advertisement

আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রা: নিজেকে চিনে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি

আরে! আজকের আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে তোমাদের সাথে আরও একটা খুব জরুরি বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। সেটা হলো, নিজেকে চেনা, মানে আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রা। তোমরা হয়তো ভাবছো, নিজেকে চেনা আবার কী এমন কঠিন কাজ? কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, এইটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটা। যখন আমি আমার মতো ব্লগিং শুরু করেছিলাম, তখন আমার নিজের সম্পর্কে অনেক কিছুই পরিষ্কার ছিল না। ধীরে ধীরে যখন আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করলাম, মানুষের সাথে মিশতে শুরু করলাম, তখন বুঝলাম আমার ভেতরের শক্তিগুলো কোথায় আর কোন দিকে গেলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি থাকতে পারবো। আসলে, নিজেকে চেনা মানে শুধু নিজের ভালো দিকগুলো জানা নয়, বরং নিজের দুর্বলতাগুলোকেও স্বীকার করা আর সেগুলোকে কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সেই চেষ্টা করা। ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে নিজের ভেতরের শক্তি আর দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা খুবই জরুরি।

আত্ম-আবিষ্কারের ধাপসমূহ

আত্ম-আবিষ্কারের এই যাত্রাটা আসলে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমি দেখেছি, কিছু সহজ ধাপ অনুসরণ করলে এই কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। প্রথমত, নিজের আগ্রহগুলো খুঁজে বের করো। কোন কাজ করতে তোমার ভালো লাগে, কোন বিষয় নিয়ে তুমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবতে পারো? দ্বিতীয়ত, তোমার মূল্যবোধগুলো কী? কোন নীতিগুলোকে তুমি তোমার জীবনের ভিত্তি মনে করো? তৃতীয়ত, নিজের শক্তি এবং দুর্বলতাগুলোকে একটি তালিকা তৈরি করো। চতুর্থত, বিভিন্ন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করো। নতুন কিছু শেখো, নতুন মানুষের সাথে মেশো, নতুন জায়গায় যাও। এগুলো তোমাকে নিজের সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে।

ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করার টিপস

যখন তুমি নিজেকে ভালোভাবে চিনতে পারবে, তখন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমার কিছু সহজ টিপস আছে যা তোমাদের কাজে লাগতে পারে। প্রথমত, পড়াশোনাকে শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জ্ঞান অর্জনের জন্য করো। দ্বিতীয়ত, নতুন নতুন দক্ষতা শিখতে থাকো। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে হলে ক্রমাগত শিখতে থাকাটা খুবই জরুরি। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করো। শরীর ও মন ভালো থাকলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হয়। চতুর্থত, ইতিবাচক মানুষদের সাথে মিশো। যারা তোমাকে অনুপ্রাণিত করবে, হতাশ করবে না।

এখানে তরুণদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা একটি সারণীতে দেখানো হলো:

দিক নির্দেশনা গুরুত্ব কীভাবে অনুসরণ করবে?
মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা চাপ ও উদ্বেগ কমাতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন, প্রয়োজনে পরামর্শকের সাহায্য
ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ ও সঠিক পথ বেছে নিতে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করা, বাজারের চাহিদা গবেষণা, ইন্টার্নশিপ
নেতৃত্ব বিকাশ আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে স্কুল-কলেজের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, দলগত প্রজেক্ট
ডিজিটাল সচেতনতা অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে ও ডিজিটাল সুযোগ কাজে লাগাতে সোশ্যাল মিডিয়ার সীমিত ব্যবহার, সাইবারবুলিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন
সামাজিক অংশগ্রহণ সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে স্বেচ্ছাসেবী কাজ, সামাজিক উদ্যোগ, কমিউনিটি প্রজেক্টে যোগদান

글을মাচি며

বন্ধুরা, তোমাদের সাথে এতক্ষণ ধরে কথা বলতে বলতে যেন আমার নিজেরই তারুণ্যের দিনগুলো মনে পড়ে গেল। এই যে পথচলা, নিজেদের চেনা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা – এই সবকিছুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল সৌন্দর্য। মনে রেখো, প্রতিটি চ্যালেঞ্জই তোমাদেরকে আরও পরিণত করে তুলবে। আমি সবসময় তোমাদের পাশে আছি, তোমাদের পথচলার সঙ্গী হিসেবে। শুধু নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখো আর সামনের দিকে এগিয়ে চলো। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা।

Advertisement

알아두면 쓸모 있는 정보

1. মানসিক চাপ কমানোর জন্য প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারো। এটা মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করবে এবং দিনের কাজকর্মে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

2. নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে ভালো করে জানো। তোমার আগ্রহ, দক্ষতা এবং মূল্যবোধ কী, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে খোঁজখবর নাও।

3. ডিজিটাল যুগে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকো এবং সাইবারবুলিং-এর শিকার হলে অবিলম্বে বাবা-মা, শিক্ষক বা নির্ভরযোগ্য কারো সাহায্য নাও।

4. নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের জন্য স্কুল-কলেজের বিভিন্ন ক্লাব বা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নাও। এতে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং অন্যদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা হবে।

5. সমাজের জন্য ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে তুমিও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারো। অন্যদের সাহায্য করা বা পরিবেশ রক্ষায় অংশ নেওয়া তোমার জীবনে নতুন অর্থ যোগ করবে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।

중요 사항 정리

আজকের এই আলোচনায় আমরা তরুণদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে কথা বললাম। মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তাকে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে শেখা, সবটাই তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া, সঠিক পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া, এবং ছোট ছোট পদক্ষেপে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা – এগুলোই সাফল্যের চাবিকাঠি। এছাড়াও, ডিজিটাল দুনিয়াতে নিজেদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মনে রেখো, তোমরা শুধু বর্তমানের নাগরিক নও, তোমরা ভবিষ্যতের নির্মাতা। তাই, নিজের প্রতি যত্নশীল হও, নতুন কিছু শিখতে থাকো এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার চেষ্টা করো। আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে চলো, কারণ তোমার ভেতরের শক্তি অপার।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য যুব পরামর্শ (Youth Counseling) কেন এত জরুরি?

উ: সত্যি বলতে কি, আমাদের তরুণ বন্ধুদের জীবনটা এখন আর আগের মতো সহজ নেই। চারপাশে অনেক সুযোগ থাকলেও, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা আর সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাব। আমি দেখেছি, এই চাপ অনেক সময় এতটাই বেড়ে যায় যে, ছোট ছোট সমস্যাগুলোও পাহাড় সমান মনে হয়। এই পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ যুব পরামর্শদাতা একজন বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক পথটা দেখাতে পারেন। তিনি শুধু সমস্যাগুলো শোনেন না, বরং একজন তরুণ কীভাবে নিজের ভেতরের শক্তিকে খুঁজে বের করে সেই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করবে, তার পথও বাতলে দেন। আজকাল স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা যায়, যা তাদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন কোনো তরুণ নিজের কথা কাউকে খুলে বলতে পারে, তখন তার অর্ধেক চাপ এমনিতেই কমে যায়। পরামর্শের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয় এবং ভুল পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

প্র: যুব নেতৃত্ব বিকাশ (Youth Leadership Development) আসলে কী এবং এর মাধ্যমে তরুণরা কীভাবে উপকৃত হতে পারে?

উ: যুব নেতৃত্ব বিকাশ মানে শুধু কিছু নিয়ম-কানুন শেখানো নয়, বরং তরুণদের ভেতরের সুপ্ত শক্তিগুলোকে জাগিয়ে তোলা, যাতে তারা নিজেদের এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ধরুন, আমাদের গ্রামে বন্যা হলো, তখন কিছু তরুণ মিলে যদি ত্রাণ সংগ্রহ আর বিতরণের কাজটা সুচারুভাবে করতে পারে, সেটাই তো নেতৃত্ব!
এই প্রোগ্রামগুলো তরুণদের শেখায় কীভাবে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হয়, সমস্যা সমাধান করতে হয়, দলগতভাবে কাজ করতে হয়, আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, কীভাবে নৈতিকতা আর সততার সাথে পথ চলতে হয়। বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (BYLC)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কর্মসূচি পরিচালনা করে, যা তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। আমি বিশ্বাস করি, একজন ভালো নেতা শুধু নিজের জন্য নয়, তার আশেপাশের মানুষদের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন তারা নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে, তখন তারা শুধু নিজের ক্যারিয়ারেই সফল হয় না, বরং সমাজের ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতাও তাদের মধ্যে তৈরি হয়, যা একটি উন্নত ও টেকসই সমাজ গঠনে খুব জরুরি।

প্র: তরুণরা কীভাবে এই ধরনের যুব পরামর্শ বা নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগগুলো পেতে পারে?

উ: আমাদের দেশে এখন অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা তরুণদের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ তৈরি করছে। যেমন, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (BYLC) বিভিন্ন ধরনের নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে, যার মধ্যে বিল্ডিং ব্রিজেস থ্রু লিডারশিপ ট্রেনিং (BBTL) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বিভিন্ন এনজিও, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোও তরুণদের জন্য কাজ করছে। অনেক সময় আমরা খোঁজ না রাখায় এমন দারুণ সুযোগগুলো হাতছাড়া করে ফেলি। আমি নিজে দেখেছি, কিছু প্ল্যাটফর্ম আছে যারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা বা পরিবেশ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। অনলাইনে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম আর কর্মশালার খবরও পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজেদের আগ্রহের জায়গাটা খুঁজে বের করা আর সে অনুযায়ী সুযোগগুলো খোঁজা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হলে নেতৃত্বের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের নিজের ভেতরের ইচ্ছাশক্তিটাই আসল। যদি আমরা চাই, তাহলে পথের সন্ধান ঠিকই পাওয়া যায়!

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement