কিশোর পরামর্শদাতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আমি প্রথম যখন গিয়েছিলাম, মনে হয়েছিল যেন এক নতুন জগতে পা দিয়েছি। চারপাশে কত রকমের মানুষ, কত বিচিত্র তাদের সমস্যা! প্রথমে একটু ভয় লাগলেও, ধীরে ধীরে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। প্রবীণ পরামর্শদাতাদের কাছ থেকে শুনেছি, প্রতিটি কিশোর-কিশোরীর নিজস্ব গল্প থাকে, যা হয়তো তারা সহজে কাউকে বলতে চায় না। একজন ভালো পরামর্শদাতা হতে গেলে সেই গল্পগুলো শোনার এবং বোঝার ক্ষমতা থাকতে হয়। কিশোর বয়সের জটিল মনস্তত্ত্ব এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারলাম।এই প্রশিক্ষণ আমাকে শুধু একজন ভালো পরামর্শদাতা হিসেবে গড়ে তুলতেই সাহায্য করেনি, বরং মানুষ হিসেবেও আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে কোনও কিশোর-কিশোরীর সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে পারি।আসুন, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিতকরণ

১. বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের প্রাথমিক লক্ষণ বোঝা
কিশোর বয়সে মন খারাপ থাকা বা অল্পবিস্তর চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তবে, এই অনুভূতিগুলো যখন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে, তখন তা বিষণ্ণতা বা উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, খাবারে অনীহা, মনোযোগের অভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাশার মতো বিষয়গুলো এক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অনেক সময় কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে পারে না, তাই তাদের আচরণে পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন, আগে যে ছেলে বা মেয়েটি খেলাধুলা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসত, সে যদি হঠাৎ করে সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে বুঝতে হবে যে তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটছে।
২. সামাজিক মাধ্যমে আসক্তির প্রভাব
আজকাল কিশোর-কিশোরীরা অনেকটা সময় সামাজিক মাধ্যমে কাটায়। অতিরিক্ত social media ব্যবহারের ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। Facebook, Instagram-এর মতো প্ল্যাটফর্মে লাইক, কমেন্ট বা ফলোয়ারের সংখ্যা কমে গেলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। অন্যের সুন্দর জীবনযাত্রা দেখে নিজেদের জীবনের প্রতি অসন্তুষ্ট হতে শুরু করে। এর ফলস্বরূপ, তাদের মধ্যে হীনমন্যতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের social media ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক কার্যকলাপগুলোতে উৎসাহিত করা।
৩. পরীক্ষার চাপ এবং পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশা
পরীক্ষার চাপ এবং পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলে। ভালো ফল করার জন্য বাবা-মায়ের চাপ, শিক্ষকের অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা—এই সবকিছু মিলে তাদের মধ্যে মারাত্মক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় তারা এই চাপ সহ্য করতে না পেরে ভুল পথে চালিত হয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল করলে তারা নিজেদের ব্যর্থ মনে করে এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের ভালো ফল করার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে তাদের আগ্রহ এবং ক্ষমতা অনুযায়ী উৎসাহিত করা। তাদের বোঝানো উচিত যে পরীক্ষা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং শেখাটাই আসল।
পারিবারিক কলহ এবং কিশোর মনে তার প্রভাব
১. বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণ ও প্রভাব
পারিবারিক কলহ কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি, মনোমালিন্য বা বিবাহবিচ্ছেদ তাদের মনে ভয়, উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং একা অনুভব করে। অনেক সময় তারা নিজেদের বাবা-মায়ের ঝগড়ার জন্য দায়ী মনে করে এবং অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। এর ফলে তাদের পড়াশোনা, সামাজিক সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন জীবনে খারাপ প্রভাব পড়ে।
২. সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উপায়
পারিবারিক কলহ থেকে মুক্তি পেতে হলে বাবা-মা উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের মধ্যে সমস্যাগুলো শান্তভাবে আলোচনা করতে হবে এবং সন্তানদের সামনে ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন। সন্তানদের সাথে খোলাখুলি কথা বলতে হবে এবং তাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে তারা একা নয়। তাদের মানসিক এবং আবেগিক চাহিদাগুলো বুঝতে হবে এবং তাদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে।
৩. একক অভিভাবকের ভূমিকা
যদি কোনও কারণে বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে একক অভিভাবকের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তাকে একই সাথে বাবা এবং মায়ের ভূমিকা পালন করতে হয়। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয় এবং তাদের অভাবগুলো পূরণ করার চেষ্টা করতে হয়। একক অভিভাবককে ধৈর্য ধরে সন্তানের কথা শুনতে হবে এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সাহায্য করতে হবে। এছাড়া, সন্তানের জীবনে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরামর্শদাতা থাকা খুব জরুরি, যার সাথে তারা মনের কথা খুলে বলতে পারে।
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন
১. খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের গুরুত্ব
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের মন ও শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিশোর-কিশোরীদের উচিত প্রচুর ফল, সবজি, শস্য এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। ফাস্ট ফুড ও চিনি যুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত। প্রতিদিন রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে।
২. ব্যায়াম এবং খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
নিয়মিত ব্যায়াম এবং খেলাধুলা শুধু শরীরকে নয়, মনকেও সতেজ রাখে। ব্যায়াম করলে আমাদের মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের মনকে আনন্দিত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। কিশোর-কিশোরীদের উচিত প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা বা খেলাধুলা করা। এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
৩. নেতিবাচক অভ্যাস ত্যাগ করা
ধূমপান, মাদক দ্রব্য গ্রহণ এবং অন্যান্য নেতিবাচক অভ্যাস কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই অভ্যাসগুলো তাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের এই ধরনের অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করা। বন্ধুদের খারাপ প্রস্তাবগুলো এড়িয়ে চলতে শেখানো উচিত।
সহিংসতা ও বুলিং প্রতিরোধে করণীয়
১. বুলিংয়ের সংজ্ঞা ও ধরণ
বুলিং একটি মারাত্মক সামাজিক সমস্যা, যা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। বুলিং হলো যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে উত্ত্যক্ত করে, ভয় দেখায় বা আঘাত করে। এটি শারীরিক, মানসিক বা সাইবার বুলিং হতে পারে। শারীরিক বুলিংয়ের মধ্যে রয়েছে মারধর, ধাক্কা দেওয়া বা জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া। মানসিক বুলিংয়ের মধ্যে রয়েছে খারাপ কথা বলা, হুমকি দেওয়া বা সামাজিক ভাবে অপমান করা। সাইবার বুলিংয়ের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট বা social media-র মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা।
২. বুলিংয়ের শিকার হলে কী করা উচিত

যদি কোনও কিশোর-কিশোরী বুলিংয়ের শিকার হয়, তাহলে তাদের উচিত চুপ না থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। প্রথমে তাদের উচিত একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, শিক্ষক বা অভিভাবকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। তারা যেন বুঝতে পারে যে তারা একা নয় এবং তাদের পাশে কেউ আছে। বুলিংয়ের প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি, যেমন স্ক্রিনশট বা মেসেজের কপি রাখা। এছাড়া, বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা উচিত এবং প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেওয়া উচিত।
৩. প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ
বুলিং প্রতিরোধে সমাজ এবং পরিবারের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্কুল এবং কলেজে বুলিং বিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উচিত ছাত্রদের মধ্যে সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা তৈরি করতে উৎসাহিত করা। এছাড়া, যারা বুলিং করে, তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনা উচিত। সাইবার বুলিং প্রতিরোধের জন্য ইন্টারনেট এবং social media ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা উচিত।
আত্ম-সচেতনতা এবং আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি
১. নিজের আবেগ বোঝা ও প্রকাশ করা
কিশোর-কিশোরীদের উচিত নিজেদের আবেগগুলো বুঝতে শেখা এবং সেগুলো সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারা। রাগ, দুঃখ, ভয় বা আনন্দ—যেকোনও আবেগ অনুভব করলে তা চেপে না রেখে বিশ্বস্ত কারো সাথে আলোচনা করা উচিত। নিজেদের অনুভূতিগুলো লিখে রাখা বা ছবি এঁকে প্রকাশ করাও একটি ভালো উপায় হতে পারে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শেখা, যেমন গভীর শ্বাস নেওয়া বা গান শোনা, মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
২. নিজের দুর্বলতা ও শক্তিগুলো চিহ্নিত করা
প্রত্যেক মানুষেরই কিছু দুর্বলতা এবং কিছু শক্তি থাকে। নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। একই সাথে, নিজের শক্তিগুলো কাজে লাগিয়ে জীবনে সফল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নিজের ভালো গুণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সেগুলোর জন্য গর্ববোধ করা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা
জীবনে সবসময় ইতিবাচক থাকা খুব জরুরি। খারাপ পরিস্থিতিতেও ভালো কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। ইতিবাচক চিন্তা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে যেকোনো সমস্যার মোকাবিলা করা যায়।
| বিষয় | করণীয় | ফলাফল |
|---|---|---|
| মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিতকরণ | লক্ষণ বোঝা, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব মূল্যায়ন, পরীক্ষার চাপ কমানো | সঠিক সময়ে সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া |
| পারিবারিক কলহ | দ্বন্দ্বের কারণ বোঝা, সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, একক অভিভাবকের ভূমিকা পালন | সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং পারিবারিক শান্তি বজায় রাখা |
| শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র | সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, নেতিবাচক অভ্যাস ত্যাগ | শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অর্জন |
| সহিংসতা ও বুলিং প্রতিরোধ | বুলিংয়ের সংজ্ঞা ও ধরণ জানা, শিকার হলে প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া | নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা |
| আত্ম-সচেতনতা ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি | নিজের আবেগ বোঝা, দুর্বলতা ও শক্তি চিহ্নিত করা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা | আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি |
পেশাদার পরামর্শকের সহায়তা গ্রহণ
১. কখন পরামর্শকের কাছে যাওয়া উচিত
কিশোর-কিশোরীদের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন তারা নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করতে পারে না। যখন মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা অন্য কোনও মানসিক সমস্যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে, তখন একজন পেশাদার পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া উচিত। এছাড়া, যদি তারা বুলিংয়ের শিকার হয়, পারিবারিক কলহের মধ্যে থাকে বা আত্মহত্যার চিন্তা করে, তবে দ্রুত একজন পরামর্শকের কাছে যাওয়া উচিত।
২. সঠিক পরামর্শক নির্বাচন
সঠিক পরামর্শক নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরামর্শক নির্বাচনের আগে তার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বিশেষত্ব সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। একজন ভালো পরামর্শক হবেন সহানুভূতিশীল, ধৈর্যশীল এবং যিনি কিশোর-কিশোরীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। এছাড়া, পরামর্শকের সাথে কথা বলার সময় যদি স্বচ্ছন্দ বোধ না হয়, তাহলে অন্য পরামর্শকের খোঁজ করা উচিত।
৩. পরামর্শের উপকারিতা
পেশাদার পরামর্শক কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সেগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সাহায্য করেন। তারা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলা করতে শেখান। পরামর্শের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের সমস্যাগুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে এবং মানসিক শান্তি ফিরে পায়।এই বিষয়গুলো অনুসরণ করে কিশোর-কিশোরীরা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে পারবে এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।
লেখা শেষ করার আগে
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের সকলের উচিত তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে তারা একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সাহায্য করি।
দরকারী কিছু তথ্য
১. মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক হেল্পলাইন নম্বর: প্রয়োজনে ফোন করে সাহায্য নিন।
২. স্থানীয় মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পেতে পারেন।
৩. বন্ধুদের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন: নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন।
৪. শিক্ষকের সাহায্য নিন: বিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে যোগাযোগ করুন।
৫. অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করুন: নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সারসংক্ষেপ
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করতে তাদের আবেগ, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এবং পরীক্ষার চাপ মূল্যায়ন করতে হবে। পারিবারিক কলহের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বের কারণ খুঁজে বের করে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়ামের গুরুত্ব দিতে হবে। সহিংসতা ও বুলিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বুলিংয়ের শিকার হলে প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত করতে হবে। আত্ম-সচেতনতা ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিজের আবেগ বুঝতে ও প্রকাশ করতে হবে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শকের সহায়তা নিতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: কিশোর পরামর্শদাতা হওয়ার জন্য কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
উ: কিশোর পরামর্শদাতা হওয়ার জন্য সাধারণত মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। এছাড়াও, কিশোর-কিশোরীদের মনস্তত্ত্ব এবং তাদের সমস্যা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা আবশ্যক। বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং লাইসেন্সিং প্রায়শই প্রয়োজনীয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কিশোর-কিশোরীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদের কথা শোনার মানসিকতা থাকতে হয়।
প্র: একজন কিশোর পরামর্শদাতা কীভাবে একজন কিশোর-কিশোরীকে সাহায্য করতে পারেন?
উ: একজন কিশোর পরামর্শদাতা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আবেগিক সমস্যাগুলো সমাধানে সাহায্য করতে পারেন। তারা ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়াশোনার চাপ, বন্ধুত্বের জটিলতা, পারিবারিক কলহ এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবের মতো বিষয়গুলোতে সহায়তা প্রদান করেন। পরামর্শদাতারা কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের অনুভূতি বুঝতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেন, যা তাদের সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়তা করে।
প্র: কিশোর পরামর্শদান কি গোপনীয়?
উ: হ্যাঁ, কিশোর পরামর্শদান সাধারণত গোপনীয়। পরামর্শদাতা এবং কিশোর-কিশোরীর মধ্যেকার আলোচনা গোপন রাখা হয়। তবে, যদি কিশোর-কিশোরী নিজের বা অন্যের জন্য বিপজ্জনক হয়, তবে পরামর্শদাতা সেই তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য থাকেন। গোপনীয়তার এই নিয়ম কিশোর-কিশোরীদের বিশ্বাস অর্জন করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো খুলে বলতে উৎসাহিত করে।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






