কিশোর পরামর্শক হিসাবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ: কিছু গোপন কৌশল যা আপনার ক্যারিয়ার বদলে দেবে

webmaster

청소년상담사 커리어 플랜 세우기 - A professional কিশোর কাউন্সেলর (teen counselor), fully clothed in modest attire, sitting in a bright...

কেরিয়ার গড়ার জন্য কিশোর-কিশোরীদের কাউন্সেলিংয়ের চাহিদা বাড়ছে, এটা এখন স্পষ্ট। একজন ইয়ুথ কাউন্সেলর হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ গোছানোর পরিকল্পনা করাটা তাই খুব দরকারি। ভাবুন তো, একজন টিনএজারের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারাটা কত বড় একটা কাজ!

এই পেশায় আসার আগে কিছু জিনিস জেনে রাখা ভালো, যেমন নিজের দক্ষতা, পছন্দের ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যতের সুযোগগুলো।আমার মনে হয়, একজন কিশোর কাউন্সেলর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে একটা ভালো প্ল্যান থাকা দরকার। এই প্ল্যানিংয়ের মধ্যে পড়ালেখা, ট্রেনিং, কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিজেকে আরও উন্নত করার সুযোগ রাখা উচিত।তাহলে চলুন, একজন ইয়ুথ কাউন্সেলর হিসেবে ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ের খুঁটিনাটিগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কিশোর কাউন্সেলিং: উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ

청소년상담사 커리어 플랜 세우기 - A professional কিশোর কাউন্সেলর (teen counselor), fully clothed in modest attire, sitting in a bright...
কিশোর বয়সটা জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাতে সঠিক পথ দেখাতে পারলে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব। একজন কিশোর কাউন্সেলর ঠিক সেই কাজটাই করেন। বন্ধু হিসেবে পাশে থেকে, সঠিক পরামর্শ দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের জীবনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

১. কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব

কিশোর বয়সে ছেলে-মেয়েরা নানা ধরনের মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যায়। পড়াশোনার চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা, পরিবারের প্রত্যাশা – সব মিলিয়ে একটা কঠিন সময়। অনেক সময় তারা বুঝতে পারে না, কী করলে ভালো হবে। তখন একজন কাউন্সেলর তাদের মনের কথা শুনে, সমস্যাগুলো বুঝতে সাহায্য করেন।

২. ক্যারিয়ারের সুযোগ

বর্তমানে কিশোর কাউন্সেলিংয়ের চাহিদা বাড়ছে। স্কুল, কলেজ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিশোর কাউন্সেলরদের কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ব্যক্তিগতভাবে চেম্বার খুলে বা অনলাইনেও এই কাজ করা যেতে পারে।

কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ

Advertisement

একজন ভালো কিশোর কাউন্সেলর হতে গেলে কিছু বিশেষ শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দরকার। এইগুলো তোমাকে আরও দক্ষ করে তুলবে।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা

কিশোর কাউন্সেলর হতে গেলে সাইকোলজি (Psychology), সোশ্যাল ওয়ার্ক (Social Work) অথবা সোশিওলজি (Sociology)-এর মতো বিষয়ে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া, কাউন্সেলিংয়ের ওপর বিশেষ ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করা থাকলে ভালো।

২. প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার্নশিপ

শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, হাতে-কলমে কাজ শেখাও জরুরি। বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাওয়া যায়। সেখানে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়।

নিজেকে প্রস্তুত করুন: দক্ষতা এবং গুণাবলী

কাউন্সেলিং করার জন্য কিছু বিশেষ দক্ষতা এবং গুণাবলী থাকা দরকার। এগুলো তোমাকে একজন সফল কাউন্সেলর হতে সাহায্য করবে।

১. যোগাযোগ দক্ষতা

কাউন্সেলিংয়ের মূল ভিত্তি হলো ভালো যোগাযোগ। কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা, তাদের কথা মন দিয়ে শোনা এবং বুঝিয়ে কথা বলতে পারার দক্ষতা থাকতে হবে।

২. সহানুভূতি এবং ধৈর্য

কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় তাদের সমস্যাগুলো সহজে বলতে চায় না। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং ধৈর্য ধরে তাদের কথা শুনতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করতে হবে।

৩. সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা

একজন কাউন্সেলরের কাজ হলো কিশোর-কিশোরীদের সমস্যাগুলো সমাধানে সাহায্য করা। এর জন্য তাদের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে সঠিক পথে চালিত করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ

Advertisement

অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো কাজই ভালোভাবে করা যায় না। কিশোর কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রেও এটা খুব জরুরি।

১. স্বেচ্ছাসেবী কাজ

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য কাজ করার সুযোগ থাকে। সেখানে কাজ করলে সরাসরি তাদের সঙ্গে মেশার এবং তাদের সমস্যাগুলো বোঝার সুযোগ পাওয়া যায়।

২. পার্ট-টাইম চাকরি

청소년상담사 커리어 플랜 세우기 - A diverse group of teenagers, fully clothed, engaged in a group counseling session led by a kind, pr...
অনেক স্কুল বা কলেজে পার্ট-টাইম কাউন্সেলরের প্রয়োজন হয়। সেখানে কাজ করলে একদিকে যেমন অভিজ্ঞতা বাড়বে, তেমনই কিছু রোজগারও হবে।

যোগাযোগ এবং নেটওয়ার্কিং

নিজের কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য পরিচিতি বাড়ানো খুব দরকার।

১. সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ

কাউন্সেলিং বিষয়ক সেমিনার এবং ওয়ার্কশপে অংশ নিলে নতুন কিছু শেখা যায়। এছাড়া, অন্যান্য কাউন্সেলর এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

২. অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এর মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাউন্সেলিং বিষয়ক গ্রুপে যোগ দিলে নিজের পরিচিতি বাড়ানো যায়। এছাড়া, বিভিন্ন ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে নিজের মতামত লিখেও পরিচিত হওয়া যায়।

বিষয় বিবরণ
শিক্ষাগত যোগ্যতা সাইকোলজি, সোশ্যাল ওয়ার্ক অথবা সোশিওলজি-তে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি
প্রশিক্ষণ কাউন্সেলিংয়ের ওপর বিশেষ ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স
দক্ষতা যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি, ধৈর্য, সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা
অভিজ্ঞতা স্বেচ্ছাসেবী কাজ, পার্ট-টাইম চাকরি, ইন্টার্নশিপ
যোগাযোগ সেমিনার, ওয়ার্কশপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম

নিজের একটি পরিচয় তৈরি করুন

Advertisement

আজকাল সবাই চায় নিজের একটা আলাদা পরিচিতি থাকুক। কিশোর কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রেও এটা খুব জরুরি।

১. ওয়েবসাইট এবং ব্লগ

নিজের একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকলে সেখানে নিজের কাজ এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখা যায়। এছাড়া, কাউন্সেলিং বিষয়ক বিভিন্ন টিপস (Tips) এবং পরামর্শও দেওয়া যায়।

২. সোশ্যাল মিডিয়া

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে কাউন্সেলিং বিষয়ক বিভিন্ন পোস্ট (Post) করা যায়। এর মাধ্যমে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

* নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া: কাউন্সেলিংয়ের নতুন পদ্ধতি এবং কৌশল সম্পর্কে জানার জন্য নিয়মিত জার্নাল (Journal) এবং বই পড়া উচিত।
* সুপারভিশন (Supervision) নেওয়া: অভিজ্ঞ কাউন্সেলরদের কাছ থেকে সুপারভিশন নিলে নিজের কাজের মান উন্নত করা যায়।
* মানসিক স্বাস্থ্য: নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা খুব জরুরি। নিয়মিত বিশ্রাম এবং নিজের পছন্দের কাজ করা উচিত।একজন কিশোর কাউন্সেলর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়াটা একটা চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু খুবই rewarding একটা কাজ। সঠিক পরিকল্পনা, শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুমিও একজন সফল কিশোর কাউন্সেলর হতে পারো।

শেষ কথা

কিশোর কাউন্সেলিং একটি মহৎ পেশা। একজন কিশোরের জীবনে সঠিক দিশা দেখাতে পারা, তার ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করা – এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে? আশা করি, এই লেখাটি পড়ে তোমরা যারা কিশোর কাউন্সেলর হতে চাও, তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। তোমাদের পথ চলা আরও সহজ হোক, এই কামনা করি।

Advertisement

দরকারি কিছু তথ্য

১. কাউন্সেলিংয়ের ওপর বিভিন্ন অনলাইন কোর্স (Online Course) করার সুযোগ রয়েছে। Coursera এবং Udemy-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ভালো কিছু কোর্স পাওয়া যায়।

২. কাউন্সেলিংয়ের সময় গোপনীয়তা রক্ষা করা খুব জরুরি। কিশোর-কিশোরীরা যেন নিজেদের কথা মন খুলে বলতে পারে, তার জন্য তাদের বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে হবে।

৩. কাউন্সেলিং করার সময় সবসময় নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত মতামত বা বিশ্বাস যেন তাদের ওপর চাপানো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৪. কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) সম্পর্কে আরও জানতে বিভিন্ন বই এবং জার্নাল পড়তে পারো। এতে তোমার জ্ঞান আরও বাড়বে।

৫. কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপ (Workshop) এবং সেমিনারের (Seminar) আয়োজন করতে পারো। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ

কিশোর কাউন্সেলিং একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা, যেখানে সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা একজন কাউন্সেলরের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিজ্ঞ কাউন্সেলরদের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা যায়। এছাড়াও, নিজের একটি ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল তৈরি করে নিজের কাজের পরিচিতি বাড়ানো যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: একজন ইয়ুথ কাউন্সেলর হতে গেলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

উ: দেখুন, ইয়ুথ কাউন্সেলর হতে গেলে প্রথমে সাইকোলজি বা এডুকেশন-এর মতো বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকাটা জরুরি। এরপর চাইল্ড সাইকোলজি বা অ্যাডোলেসেন্ট ডেভেলপমেন্ট-এর ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি থাকলে ভালো হয়। শুধু ডিগ্রি থাকলেই তো হবে না, কিশোর-কিশোরীদের সাথে মিশে তাদের সমস্যাগুলো মন দিয়ে শোনার এবং তাদের সাথে সহজে কথা বলার দক্ষতাও থাকতে হবে। আমি যখন প্রথম এই কাজটা শুরু করি, তখন আমার কমিউনিকেশন স্কিলটা খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি বুঝতে পারি, ওদের সাথে বন্ধুর মতো মিশলে ওরা সহজে সব কথা খুলে বলে।

প্র: ইয়ুথ কাউন্সেলিং-এর ট্রেনিং কোথায় পাওয়া যায়?

উ: ইয়ুথ কাউন্সেলিং-এর জন্য ভালো ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করাটা বেশ কঠিন। তবে কিছু ইউনিভার্সিটি এবং প্রাইভেট ইনস্টিটিউট আছে যেখানে কাউন্সেলিং-এর ওপর প্রফেশনাল কোর্স করানো হয়। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগে এই ধরনের কোর্স করানো হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন এনজিও (NGO) সময়ে সময়ে ইয়ুথ কাউন্সেলিং-এর ওপর ওয়ার্কশপ আয়োজন করে থাকে। আমি নিজে একটা ওয়ার্কশপে অংশ নিয়েছিলাম, যেখানে প্র্যাকটিক্যাল কিছু টিপস পেয়েছিলাম, যেগুলো আমার কাজে খুব লেগেছে।

প্র: একজন ইয়ুথ কাউন্সেলরের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে? ভবিষ্যতে কি ভালো সুযোগ আছে?

উ: ইয়ুথ কাউন্সেলিং-এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, তাই এই পেশায় ক্যারিয়ারের সুযোগও বাড়ছে। আপনি স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, এনজিও এমনকি প্রাইভেট ক্লিনিক-এও কাজ করতে পারেন। এছাড়া, এখন অনেক কর্পোরেট অফিস তাদের কর্মীদের জন্য ইয়ুথ কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা রাখছে। আমার মনে হয়, যদি আপনি নিজের কাজে দক্ষ হন এবং নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো সুযোগ অবশ্যই আসবে। আমি দেখেছি, যারা এই পেশায় মন দিয়ে কাজ করে, তারা খুব তাড়াতাড়ি ভালো জায়গায় পৌঁছে যায়।

Advertisement